এফিলিয়েট মার্কেটিং কিঃ Affiliate Marketing সম্পর্কে বিশদ আলোচনা

বর্তমানে আমাদের দেশের অনেকের মাঝেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আমি এটা বুঝতে পারছি কারন আমার বিভিন্ন ব্লগে অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে চাচ্ছেন।

 

ইতোমধ্যে আমি অনেককেই এই মার্কেটিং সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছি তবে সবকিছুই ছিল ছাড়া ছাড়া, তাই মনে হল যে আজ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর একটি বিশদ আলোচনা করা যাক যার ফলে কেউ যদি আমার এই কন্টেন্টটি দেখে তবে তার আর এ সম্পর্কে জানতে কিছু বাকি থাকবে না।

 

তো বন্ধুরা আপনারা যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে ডিটেইলড একটি কনটেন্ট চাচ্ছেন তাদের জন্য আমার এই কন্টেন্টটি যথেষ্ট। তো আর দেরি না করে পুরো ব্যাপারটি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জেনে নিন।

 

Affiliate Marketing কি?

তাহলে এবার আমারা জানবো এফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে আর এর জন্য আমি প্রথমেই একটি ছোট্ট উদাহরণ পেশ করতে যাচ্ছি।

 

ধরুন আপনার একটি কফিশপ আছে যেখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের কফি বিক্রি করে থাকেন। আপনার কফি শপে অনেকেই কফি পান করতে আসেন।

 

তো একদিন আপনি আপনার কফি শপের বিক্রি বাড়ানোর জন্য ঘোষণা করলেন যে আপনার কফি শপে যারা নতুন নতুন কাস্টমার নিয়ে আসতে পারবে তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কমিশনের ব্যবস্থা আছে। এই ঘোষণার পর দেখা গেল যে পরের মাসে ১০০ জন অনেক নতুন কাস্টমার আপনার কফি শপে নিয়ে আসলো। আপনি এই ১০০ জনকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দিলেন এবং ফলশ্রুতিতে আপনি কিন্তু এই ১০০ জন মানুষের দ্বারা বিপুল পরিমাণ নতুন কাস্টমার পেলেন।

 

ফলে আপনিও লাভবান হলেন আবার যাদেরকে আপনি কমিশন দিয়েছেন তারাও লাভবান হল। একই সাথে এই যে ১০০ জন কে আপনি কাজে লাগালেন এই ১০০ জনকে কিন্তু আপনার সেলারি বা নির্দিষ্ট কোনো বেতন দেয়ার কোন টেনশন ছিল না কারণ তারা যখনই আপনার কফিশপে কাস্টমার নিয়ে আসতে পেরেছে তখনই মাত্র আপনি তাদেরকে কমিশন দিয়েছেন।

 

আপনি এই ১০০ জনকে তাদের পারফরমেন্সের উপর ভিত্তি করে কমিশন দিয়েছেন তাই এই মার্কেটিং এর আরেকটি নাম হল পারফর্মেন্স মার্কেটিং। এই যে প্রক্রিয়াটি দেখলেন এটি একটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুন্দর উদাহরণ যদিও এটি আমি অফলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে দেখিয়েছি, তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত অনলাইনেই সম্পন্ন হয়ে থাকে।

 

আপনি ঘরে বসেই আপনার ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য প্রোডাক্ট প্রোমোট করতে পারেন। আর যখনই আপনি ওই কোম্পানিগুলোর জন্য সেলস নিয়ে আসতে পারবেন তখনই আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেতে থাকবেন। যত সেল করতে পারবেন ততো কমিশন পাবেন। সেল না করেও কমিশন পাওয়া যায় যেটি আমি সিপিএ মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা করার সময় বলবো।

 

তবে এক্ষেত্রে সবথেকে মজার ব্যাপার হলো এই যে প্রোডাক্টগুলো আপনি প্রমোট করছেন সেগুলো কিন্তু আলটিমেটলি আপনার নিজের কাছে গচ্ছিত রাখতে হচ্ছে না কারণ অনলাইনে অনেক ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাবেন যেগুলো আপনি প্রমোট করতে পারেন। আবার যদি কোন ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট নিয়ে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করেন (যেমন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং) তবে শুধু তার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, ভালো দিক, খারাপ দিক, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি দেখিয়ে আপনার অডিয়েন্সের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন।

 

তাই আপনি এক দেশে বসে অন্য দেশের কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট প্রোমোট করে ভালো অংকের অ্যাফিলিয়েট কমিশন পেতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এতটা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কাজের এই ফ্লেক্সিবিলিটি একটি অন্যতম কারন।

 

আপনি চাইলে আপনার ঘরে বসে বা আপনার অফিসে বসে অথবা কোন সী বিচে বসেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করতে পারেন।

 

বিশ্বের এমন অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার আছেন যারা সারা বছর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেন আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেন। তাদের জীবনটা এতটাই রোমাঞ্চকর যে তাদের কোন ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত বোরিং জব করতে হয় না। আবার তাদের অর্থ নিয়ে কোন চিন্তা করতে হয় না কারণ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনেক আয় করা যায়। একই সাথে তারা পেয়ে যান সময়ের স্বাধীনতা।

 

তাই সময়, অর্থ ও ভ্রমণের স্বাধীনতা এই তিনটিকে একই সাথে পেতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জুড়ি নেই।

 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে জড়িত ৪ শ্রেণি

উপরের উদাহরণটিতে আপনি দেখতে পেয়েছেন যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি শ্রেণি কাজ করে। এখন আমরা এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা করব।

 

ওই যে কফিশপের মালিক যিনি কমিশনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি হলেন মার্চেন্ট (merchant) বা রিটেইলার (retailar)। তাহলে আমরা এক কথায় খুব সোজা ভাষায় বলতে পারি যে যার প্রোডাক্ট তাকে মার্চেন্ট বা রিটেইলার বলে। মার্চেন্টকে ব্র্যান্ড (brand) ও বলা যায়।

 

যে ১০০ জন ওই কফি শপে নতুন নতুন কাস্টমার নিয়ে এসেছিল তাদেরকে অ্যাফিলিয়েট বলা যায়। তাহলে মার্চেন্ট এর প্রোডাক্ট যারা কমিশনের আশায় প্রমোট করছে তাদেরকে বলা হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট (affiliate) বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার।

 

এখন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যেহেতু অনলাইনেই করা হয়ে থাকে তাই অধিকাংশ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করে থাকেন আর এজন্য তাদেরকে পাবলিশার (publisher) বলেও ডাকা হয়।

 

আর কাস্টমার কারা তাতো বুঝতেই পেরেছেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার যাদেরকে মার্র্চেন্ট এর প্রোডাক্ট এর প্রতি আগ্রহী করে সেল নিয়ে আসে তাদেরকেই কাস্টমার (customer) বলা হয়ে থাকে।

 

এই তো গেল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে জড়িত ৩ শ্রেণী। এখন আরও একটি শ্রেণী নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি যার নাম হলো নেটওয়ার্ক (network) বা এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক।

 

এরা কারা? হ্যাঁ, অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক হল তারা যারা বিভিন্ন মার্চেন্টের অ্যাফিলিয়েট অফারসমূহ বিভিন্ন এফিলিয়েট মার্কেটারের কাছে প্রকাশ করে যেমন আমরা বলতে পারি কমিশন জংশন, ক্লিকব্যাংক, রাকুটেন মার্কেটিং ইত্যাদি হল বিভিন্ন নেটওয়ার্ক। অনেক সময় মার্চেন্ট নিজে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ঝামেলা সমূহ এড়ানোর জন্য এরকম অনেক নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত হন ফলে তারা খুব সহজেই এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামটি চালাতে পারেন।

 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তার কারন!

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এতটা জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো যে উপরে উল্লেখিত চারটি শ্রেণী এর মাধ্যমে ব্যাপক উপকৃত হচ্ছেন।

 

একটু খোলাসা করে বলি প্রথম যিনি উপকৃত হচ্ছেন তিনি হল মার্চেন্ট কারণ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে তিনি অধিক পরিমাণ সেল পাচ্ছেন আর এর জন্য তার কোন টেনশন করতে হচ্ছে না কারণ তাকে মাসিক বা ঘন্টা ভিত্তিক কাউকে নিয়োগ দিতে হচ্ছে না। যখনই কেউ তার প্রোডাক্ট সেল করতে পারছে তখন তাকে তার প্রফিট থেকে কমিশন দিতে হচ্ছে।

 

দ্বিতীয় উপকার পাচ্ছেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার কারণ তিনি মার্চেন্ট এর প্রোডাক্ট প্রোমোট করে তা বিক্রির মাধ্যমে কমিশন পাচ্ছেন। তার নিজস্ব কোন প্রোডাক্ট তৈরি করতে হচ্ছে আর না কোন গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি দিতে হচ্ছে। তাকে শুধু প্রোডাক্টের গুনগত মান সম্পর্কে ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে বিক্রি করতে হচ্ছে।

 

তৃতীয় লাভবান হচ্ছেন কাস্টমার কারণ বর্তমানে অধিকাংশ ক্রেতাই কোন পণ্য কেনার আগে অনলাইনে সার্চ করে তা সম্পর্কে বিভিন্ন জনের মন্তব্য এবং এর খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জেনে নেন আর তারা এই ইনফরমেশন সমূহ বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট সাইটে পাচ্ছেন।

 

বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট সাইটে এই সমূহ তথ্য তাদের প্রোডাক্ট কেনার ব্যাপারে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সাহায্য করছে।

 

আর ওই চতুর্থ শ্রেণি তারমানে অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক কিন্তু মার্চেন্ট ও অ্যাফিলিয়েট এর মাঝে একটি সেতুবন্ধন করে তিনি ও মুনাফা অর্জন করতে পারছেন।

 

তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে চারটি শ্রেণি ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন আর এভাবেই দিনে দিনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।

 

তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তার সাথে সাথে এর কিছু খারাপ দিক ও উঠে এসেছে যেমন অনেক অসৎ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার শুধুমাত্র বেশি বেশি কমিশন লাভের আশায় খারাপ মানের প্রোডাক্ট বিভিন্নভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তার অডিয়েন্সের কাছে বিক্রি করছেন। এছাড়াও অনেক সময় নিম্নমানের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা বিভিন্ন স্প্যামিং এর আশ্রয় নিচ্ছেন যাতে তারা বেশি বেশি গ্রাহককে তাদের ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারেন এর মধ্যে আছে সোশ্যাল মিডিয়া স্প্যামিং, ব্ল্যাক হ্যাট এসইও, ইমেইল স্প্যামিং ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

তবে যারা ভালো এফিলিয়েট মার্কেটার এবং ইথিক্যালি কাজ করেন তাদের কাছ থেকে সবসময় উপকার আশা করা যায় আর যে কোন ব্যবসাতেই ভালো খারাপ দুটোই থাকবে তাই নিম্নমানের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের কথা বিবেচনায় না রেখে ভালোদের দিকেই তাকানো উচিত এবং একই সাথে আপনি যদি আফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করেন তবে অবশ্যই আপনি ইথিক্যালি এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন কারণ ইল্লিগ্যাল কাজ করে কখনোই ভালো কিছু করা যাবে না এটা সব সময় মনে রাখবেন।

 

বিভিন্ন ধরনের এফিলিয়েট মার্কেটিং

এখন আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করব। একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার কে তার কমিশন কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হবে তার ওপর নির্ভর করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এর প্রথম ভাগ হলো রেভিনিউ শেয়ারিং (revenue sharing) যার আরেকটি নাম হলো পে পার সেল (Pay Per Sale সংক্ষেপে PPS) এবং দ্বিতীয় ভাগ হলো কস্ট পার একশন (cost per action) বা সি পি এ (CPA)।

 

রেভিনিউ শেয়ারিং (Revenue Sharing)

এখন রেভিনিউ শেয়ারিং মডেল টা কেমন সেটি নিয়ে একটু আলোচনা করি রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলে একজন মার্চেন্ট এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে বিক্রির মাধ্যমে যে আয় করে তার একটি অংশ অ্যাফিলিয়েট বা পাব্লিশারের সাথে শেয়ার করে আর এ জন্যই একে বলে রেভিনিউ শেয়ারিং।

 

ধরেন একজন মার্চেন্ট এর একটি প্রোডাক্ট এর দাম হল ১০০০ টাকা। সে একজন এফিলিয়েটের কাছ থেকে একটি সেল পেল এবং তখন সে এই ১০০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা ওই এফিলিয়েটকে দিয়ে দিল। তাহলে এখানে কি হল? মার্চেন্ট যে রেভিনিউ করছে তা থেকে তার এফিলিয়েটের সাথে শেয়ার করছে।

 

যেমন আমি একটি প্রডাক্ট প্রমোট করি যার নাম হল গ্রামারলি (Grammarly) যাদের কাছ থেকে আমি প্রতিটি ২৯ ডলারের সেল থেকে ২০ ডলার পাই। তার মানে হল আমার মার্চেন্ট ২৯ ডলার থেকে আমাকে বা তার অন্যান্য এফিলিয়েটদের ২০ ডলার দিয়ে দিচ্ছে।

 

সি পি এ (CPA) মার্কেটিং

আর কস্ট পার একশন বা সিপিএ মার্কেটিং এ সরাসরি কোন রেভিনিউ শেয়ার করা হয় না বরং মার্চেন্ট এর বলে দেয়া অ্যাকশন এর উপর নির্ভর করেই অ্যাফিলিয়েট কে কমিশন দেওয়া হয়।

 

ধরুন কোনো মার্চেন্ট বলল যে আমার জন্য যারা লিড জেনারেট করতে পারবে বা আমার এই ফর্মটা যারা পূরণ করাবে তারা একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন পাবে তাহলে এটি হবে সিপিএ মার্কেটিং। এখন সিপিএ মার্কেটিং টা অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় মনে হয় এ কারণে যে এই পদ্ধতিতে অ্যাফিলিয়েট কে কোন প্রোডাক্ট সেল করতে হয় না বরং যেকোনো একটি অ্যাকশনের কারণেই সে কমিশন পেতে পারে। তবে রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলে অনেক বেশি কমিশন পাওয়া যায়।

 

অনেক মার্চেন্ট রেভিনিউ শেয়ারিং ও সিপিএ উভয় পদ্ধতিতে তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রাম পরিচালনা করে যেমন গ্রামারলির ফ্রি একাউন্ট কেউ যদি আমার লিঙ্ক থেকে ওপেন করে, তবে আমি পাই ২০ সেন্ট আর এটি হল একধরনের সিপিএ মার্কেটিং।

 

আবার অ্যাফিলিয়েট কে কতবার কমিশন দেয়া হবে তার ওপর নির্ভর করে এফিলিয়েট মার্কেটিং কে দুই ভাগে ভাগ করা যায় আর তা হলো সিঙ্গেল টায়ার এবং টু টায়ার বা মাল্টি টায়ার।

 

সিঙ্গেল টায়ার (Single-Tier)

সিঙ্গেল টায়ার এফিলিয়েট মার্কেটিং এ মার্চেন্ট তার এফিলিয়েটকে প্রতিটি সেলের জন্য মাত্র একবারই কমিশন দেয়। যেমন গ্রামারলি আমাকে প্রতিটি সেল করতে পারলে ২০ ডলার দেয় আর এটি হল সিঙ্গেল টায়ার।

 

টু টায়ার (Two-Tier) বা মাল্টি টায়ার (Multi-Tier)

এ ধরনের মডেলে একজন এফিলিয়েট তার মাধ্যমে আনা গ্রাহকদের প্রত্যেকের সেল থেকেও কমিশন পান। ধরেন ক একজন এফিলিয়েট যিনি খ ও গ কে কোন এক মার্চেন্টের প্রোগ্রামে যুক্ত করল।

 

এখন খ ও গ এর প্রতিটি সেলেও ক একটি কমিশন পেতে থাকবেন। এই মডেলটা অনেকটাই এম এল এম (MML) সিস্টেমের মত হলেও মার্চেন্টের মানসম্মত প্রোডাক্ট থাকার ফলে এখানে কোন প্রতারণা নেই।

 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ইতিহাস

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ইতিহাস কিন্তু অনেক দীর্ঘ কারন ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জন্মের মাত্র চার বছরের মাথায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কনসেপ্টের সূচনা হয়। উইলিয়াম জে টবিন (William J Tobin) সর্বপ্রথম অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রবর্তন করেন।

 

তিনি তার প্রতিষ্ঠান  PC Flowers & Gifts কে প্রোডিজি নেটওয়ার্কের (Prodigy Network) আওতায় আনেন এবং ১৯৯৮ সাল থেকে তাদেরকে সেলের জন্য কমিশন ব্যবস্থা চালু করেন। টবিন ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম একটা বিটা ভার্সন চালু করেন এবং ২৬০০ এফিলিয়েট পার্টনার নিয়ে ১৯৯৫ সালে তার অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করেন।

 

১৯৯৪ সালে CDNow ও ১৯৯৬ সালের জুলাই মাসে Amazon তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করেছিল।

 

একে একে এফিলিয়েট সিস্টেম অনলাইন প্লাটফর্মে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হতে থাকেন।

 

তো এই ছিল এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আমার প্রারম্ভিক আলোচনা। এ সম্পর্কে আরো বেশি বেশি জানতে আমার সাইটের অন্যান্য পোস্টসমূহের পাশাপাশি অডিও ক্লিপ্সগুলো শুনুন ও ভিডিওসমূহ দেখুন।

 

আর পোস্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে তা অন্যান্যদেরকেও জানিয়ে দিন।

Leave a Comment